Notice Hotline:01787612121Visitor Count: 21731

+

জয় দয়াময়

শ্রীমৎ আচার্য আনন্দস্বামী প্রণীত বানী সমূহ:

১ দয়াময় নাম হৃদয়ে রাখ, আর অশুভ নাই।

২ ঈশ্বর সকল করেন আমি কিছুই করি না।

৩ স্বজাতি বিজাতি সকলই এক জাতি। দয়াময়ের জাতি কিছু নাই। তথাপি জাতি ভেদ যে কার নানা ভাবও সেই কারনে হইয়া থাকে।

৪ দয়াময় বলিলেন তোমরা আমাকে হৃদয়ে গ্রহণ কর। তবে সকল শান্তি তোমাদের আসিবে ও আশা পূর্ণ হইবে।

৫ প্রার্থনার ফলদাতা আমি, কিন্তু তোমাদেরও মুখে প্রার্থনা না করাইয়া ফলদান করিতে পারি না এই আমার নির্দিষ্ট নিয়ম।

৬ ভাই,ভগিনী,বন্ধু,বান্ধব সকলে চল হে একবার সাধ্য সাধন পূর্ণ করিবার জন্য দয়াময় সমীপে প্রার্থনা করি।

৭ পিতা মাতার প্রেমের ধন সন্তান। উভয়ের প্রেম শিথিল ভাব হইলে সন্তানের অমঙ্গল হয়।

৮ প্রত্যেক মানুষ দয়াময়ের চরণে সাধ্য সাধন করিবে। একজনও আর এই নাম না বলিয়া স্থির থাকিতে পারিবে না।

৯ জগত প্রতি মুহূর্তেই উন্নতি লাভ করিতেছে। একদিনের পর আর একদিন উত্তম।

১০ তোমরা নিরাশ হইও না আমি দয়াময় নামে তোমাদের উন্নতি সাধন করিব এই দয়াময়ের বাণী।

১১ দয়াময় নাম পূর্ণ। এই নাম যখন আমাদের হৃদয়স্থ আছে তখন আমরা দয়াময়কে লাভ করিয়াছি কেননা নামেতে তাহাতে অভেদ।

১২ দয়াময়ের অধীন হইলেই পূর্ণ স্বাধীনতা আসিল।

১৩ আমরা দয়াময়কে ডাকি একথা অগ্রাহ্য কেননা দয়াময় যখন আমাদিগকে ডাকিতে অবকাশ দেন কেবল তখনই আমরা ডাকিতে পারি।

১৪ ঈশ্বর নিজ হস্তে যাহা নির্ম্মাণ করিয়া দিয়াছেন তাহা হইতে অচেতন, জড় কোন মূর্ত্তিকে কখনও শ্রেষ্ঠ মনে করা যাইতে পারে না। গৃহে সর্ব্ব কার্য্যরে ভার লইয়া যিনি আছেন তাহার প্রতি শারীরিক, মানসিক উভয় প্রেমই উদয় হয়। তবে কেন বিলম্ব কর, গৃহের দিকে দৃষ্টি কর। গৃহে সাকার, অন্তরে নিরাকার।

১৫ তোমরা বিশেষ ভাবে প্রস্তুত হও, যেন জগতের কার্য্য ভিন্ন আর কোন কার্য্য মনে না থাকে।

১৬ তোমরা সংসারে থাকিয়া স্বর্গ লাভ করিবেই করিবে। দয়াময় পুনঃ পুনঃ এই কথা বলিতেছেন।

১৭ তোমরা যদি আমাকে তোমাদের গৃহের অভ্যন্তরে আছি বলে জান তবে তোমাদের সর্ব্ব দুঃখ একেবারে দূর হইয়া যাইবে।

১৮ কৃষ্ণ সর্ব্বদাই ব্রহ্ম মন্দিরে উপস্থিত থাকেন। সকল প্রেম একদিন কৃষ্ণ নামেতে ছিল। আজ অর্দ্ধযোগ আছে।

১৯ দয়াময় নাম বড় চমৎকার। মহাযোগ উপস্থিত এই নামে হয়। পূর্ব্বে যাহা হয় নাই এখন এই নামে তাহা হইবে। কঠোর সাধনের ফল এই নামেতে পাইবে। এই নাম স্মরণ করিলে সকল ভয় দূর হইয়া যায়।

২০ কেবল উপাসনায় ব্যস্ত হইয়া বসিয়া থাকিব কার্য্যেতে কর্ম্মেতে উপাসনা আছে তাহা বুঝিব না তাহা হইতে পারে না।

২১ তোমাদের সুখ সম্পদ এই হৃদয়ে। যদি মনের কৈতব রাখ তবে শরৎ কালের জ্যোৎস্না পাইবে না।

২২ সমকক্ষ সাধন ব্যতীত উপাসনা হইতে পারে না। কোন ব্যক্তি আজ পর্য্যন্ত প্রকৃত উপাসনার ভাব পায় নাই। তাহা হইলে জীবন্মুক্তির ব্যাপার দেখা যাইত।

২৩ মানের গৌরব যাহাদের মনে আছে তাহারা কখনই দয়াময়ের শরণাপন্ন হইতে পারে না।

২৪ রোগ, শোক মঙ্গলের কার্য্য করিতেছে। অকৈতবে ইহা মনে রাখিবে।

২৫ গর্ভস্থ হইবার পূর্ব্বে ‘বিশেষরূপে তোমার কাজ করিব’ এই প্রতিজ্ঞা করিয়া জীব সংসারে আসে। জন্মিবা মাত্র ওনা ওনা বলে পূর্ব্বের প্রতিজ্ঞা ভুলিয়া যায়।

২৬ সাধকবৃন্দেরই রাজাদিগের মঙ্গলের জন্য বিশেষ আগ্রহ থাকা উচিত। রাজ্যের মঙ্গল হইলে সাধারণেরও মঙ্গল হয়।

২৭ মুখে দয়াময় হৃদয়ে শূন্য এরূপ ভাব যেন আমাদের না থাকে। মনে মুখে এক রকম চাই।

২৮ অসাধু কার্য্য আর সাধু কার্য্য উভয়ই মনের মালিন্য সঞ্চার করে। সাধুতা মনের অহংকার উৎপাদন করে। অন্য লোক হইতে আপনাকে উচ্চ স্থানে বসায়। উভয়েতেই মনের বিকার আছে।

২৯ দয়াময় বলিলেন, “শুনহে জগদ্বাসীগণ তোমাদের সকল দুঃখের কারণ আমি। দুঃখ হন্তাও আমি। আমাকে কল্যাণপ্রদ মনের ভাবে গ্রহণ কর।

৩০ দয়াময় যাহাকে কার্য্য দিবেন তাহার জীবন পথ সুগম হয়। তাহার সকল আশা অচিরে পূর্ণ হইয়া থাকে।

৩১ দয়াময় নাম জপ করিলে পূর্ণ প্রেম পাইবে। এই নামেতে একতা, শান্তি, পরিত্রাণ লাভ করিবে।

৩২ ভগীরথ গঙ্গা আনিয়া যেমন পূর্ব্ব পুরুষ উদ্ধার করিয়াছিলেন, তদ্রুপ বংশের প্রদীপ দয়াময়ের নাম যাচক লোক।

৩৩ দয়াময় বলিতেছেন, শোন আমার সকল ভান্ডার এই বাটীতে রাখিয়াছি। এই বাটীতে আমি অবতীর্ণ হইয়া তোমাদিগকে দেখা দিব।

৩৪ হৃদয়ে সরল ভাবে তাঁহাকে বন্ধু বলিয়া বিশ্বাস ও তাঁহাতে আত্মসমর্পণ পূর্ব্বক জীবনের সমুদয় ভাব তাঁহাতে অর্পণ করা ও তাঁহার হওয়ার নিমিত্ত তাঁহার নিকট যে প্রার্থনা তাহাই প্রকৃত উপাসনা।

৩৫ একটি মনুষ্যতে জগতের যেমন ছায়া আছে, একটি পরমাণুতেও তেমনি জগতের যোগ রহিয়াছে।

৩৬ ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর সকলেই ঈশ্বর চিন্তা করিয়াছেন, শাস্ত্রে এই কথা আছে। যে ব্যক্তি অন্যের পূজা করে সে কখনো ঈশ্বর হইতে পারে না। জ্ঞানের চক্ষুতে দেখিতে গেলে জগতকে ঈশ্বর বলা যাইতে পারে। অতএব যাহার মধ্যে জগত দেখিতে পাও তাহাকে ঈশ্বার বলা যাইতে পারে।

৩৭ মৃত্যু, রোগ, শোক শরীর সংশোধক, নাশক নহে। মৃত্যু কেবল ঈশ্বর লাভের পূর্ব্ব কার্য্য।

৩৮ শরীর ধ্বংস হয় আর দেখা যায় না, কিন্তু শরীর থাকে। যেই বীজ হইতে অঙ্কুর সেই বীজেতে লুকায়িত থাকে। বাহিরের চক্ষু দ্বারা কেহ দেখিতে পায় না।

৩৯ জগতের সেবা করিবার জন্য বিশেষ মনোযোগী হইয়া স্বার্থ ত্যাগ করাই পূর্ণ সাধন।

৪০ দয়াময় বলিলেন, আমার নামেতে যাহারা এখন অবধি দীক্ষার ভাব পাইবে তাহারা কোন প্রকারেই আর দুঃখ ভোগ করিবে না।

৪১ ভয় নাই আর ভাই বল দয়াময়; জীবন্মুক্ত হবে সবে নামেতে বিজয়।

৪২ বহুনাম পেয়ে, ধরিলে হৃদয়ে, এবে দয়াল নামে পাবে সমুদয়।

৪৩ দয়াময় নাম, সকল প্রেমের ধাম, জপরে অজপা যোগে পাইবে আরাম।

৪৪ কত ব্যাস বাল্মীকি ঈশা মুশা, শিব শুক নারদ করি আশা, বান্ধিল সেতু মিটাইতে ধর্ম্ম পিপাসা, মানব কুলের দুঃখ আর ঘুচিল না। আপদ ভঞ্জন দয়াময় নাম, আইল করিতে সকলে সিদ্ধকাম; আলোকিত করিয়া হৃদয় ধাম করিবে পূরণ সাধকের সাধনা।

৪৫ দয়াময় নামে হরি মিশিল এখন, দয়াময় বল হবে সফল জীবন। পঞ্চ প্রকার প্রেম জীবনের সার, একে পঞ্চ পঞ্চে এক হইল উদ্ধার।

৪৬ এখন দয়াময় হইল সর্ব্বনাম, যাতে সকলে হবে সিদ্ধকাম। আল করিম সমতুল, কির্দ্দগার, মার্শিফুল, আরবী পারশী ইংলিশেতে বিদ্যমান; যে নাম আছে যে ভাষাতে, আসিয়া মিশিল তাতে, ভাষা ছেড়ে কর সবে দয়াময় গুণগান।

৪৭ হল ক্রমেতে বহুলীলা জগতে; মৎস্য কূর্ম্ম আদি শিব বিষ্ণু বিধি রাম কৃষ্ণ কালী দুর্গা হতে। ঈশা, মুশা, দাউদ, গৌতম, মহম্মদ, চৈতন্য, শঙ্কর ধর্ম্ম মতে। যে ছিল নানা মত, হল সব একমত, আজি মধুর দয়াময় নামেতে।

৪৮ একাকী নয় জগত ল’য়ে, চলরে আনন্দ হ’য়ে, কেনরে কুন্ঠিত মনে ভয় কিছু নাই

৪৯ দয়াময় গুরু আছেন দেখ সকল ঘরে ঘরে, মানুষেতে মানুষ রতন সদা বিরাজ করে

৫০ যদি বল পৃথক পৃথক আছে শক্র মিত্র ভাবে, অঙ্গহীন তবে তুমি, সাধন সিদ্ধি কিসে হবে

৫১ আদি দেব নারায়ণ হতে যত নাম, মিশিল দয়াময় নামে দিয়ে পূর্ণ কাম।

৫২ ইহকাল পরকাল এক সঙ্গে আছে, জীবন সাধন আছে উভয় কাল মাঝে। নামে মুক্তি নামে জীবন নামে সকল পাবে, উদার প্রেম শিক্ষা কর সকল দুঃখ যাবে

৫৩ দয়াময় মাতৃরূপে আছেন সদা হৃদয় কূপে, পিতৃভাবে দেখ তাঁরে মাতার রূপে এক করে

৫৪ নাম অন্ধকারের আলোক, বুঝে না অবোধ লোক, কি কাজ আর হইয়া বিমুখ দয়াময়ের জয় বল।

৫৫ ধ্যান যোগ মোক্ষ সাধন, নামের সংখ্যা পূর্ণ কারণ, রতন যতন কররে এখন, মিছা সংসারে আর থেক না।

৫৬ ভজ দয়াময় নাম, পূর্ণকাম হবিরে এই সংসারে। একতাও নামে হবে, অবতীর্ণ প্রভু এবে, সর্ব্ব জাতি সর্ব্ব প্রেম সর্ব্ব ধর্ম্ম এক করে। মহামন্ত্র এই নাম, জীবনে মুক্তিরধাম, সর্ব্বনাম প্রাণারাম মরা মানুষ আসবে ফিরে।

৫৭ আজি দয়াময় নামে পুরাইব মনসাধ, জগৎবাসীর পায়ে পড়ে ভাঙ্গিব সকল বিবাদ।

৫৮ নামে মত্ত হওরে মন, দয়াময় কর মনন, হবে শান্তি ইচ্ছা যেমন, পেয়ে পরম আহলাদ।

৫৯ উৎসবে মাতিয়া তারে, রাখ হৃদয় কন্দরে, দেব ঋষি মুনি যারে করে সদা আরাধন।

৬০ সর্ব্বনাম সাধনেতে, দয়াময় নাম এ জগতে, আইল করিতে জীবে মুক্ত, দিতে চির সুখ।

৬১ নব নব ভাবে প্রেমের ধর্ম্ম প্রকাশিলে রাজ্যে কেহ না জানে মর্ম্ম।

৬২ যে নামে যাহার মনন, দয়াময় যোগে সাধন, কররে জগজ্জন মানসেতে।

৬৩ দয়াময়ের পূর্ণ আবির্ভাব, ধরাধামে হল এবার গেল অসদ্ভাব।... দয়াময় নামে দেহ জয়, স্বর্গ এল পৃথিবীতে নাহি মৃত্যু ভয়।... দয়াময় রাজা তোমরা প্রজা, কর পদে প্রেমাঞ্জলী দান

৬৪ শুনরে জগতজন, দয়াময় কর মনন, সর্ব্বযোগেতে মিলন, হবে এই নামেতে।

৬৫ বল দয়াময় হরি, দয়াময় অবতরি, সর্ব্বনাম এক করি ঘুচাইলেন যন্ত্রণা।

৬৬ ভয় নাই আর সংসারে দয়াল নাম সাধরে। জীবের পরিত্রাণ শুভ বিধান দয়াময় রূপ সাগরে।

৬৭ জীবের দেখি দুরাশয়, কলিযুগে দয়াময়, দয়াময় নাম সুধা ঘরে ঘরে যাচেরে।

৬৮ দয়াময় নাম দিবে সর্ব্বকাম, এই সর্ব্বধর্ম্ম পরম আরাম, চরণ যুগলে দাও হে বিশ্রাম আশ্রয় শান্তির সম্পদ কর হে দান।

৬৯ ব্রহ্ম বা একমিদমগ্র আসীৎ নান্যৎ কিঞ্চনাসীৎ, তদিদং সর্ব্বমসৃজৎ তদেব সর্ব্বশক্তিমৎ।

৭০ মনুষ্য নির্দ্দিষ্ট নিয়মের অধীন।

৭১ কোন ধর্ম্মাবলম্বী বিপথগামী নহে।

৭২ যে কাল পর্য্যন্ত মানুষকে দোষী ও গুণী বলিয়া মনে ধারণা থাকিবে ততকাল জগতে ঐক্য বন্ধন অসম্ভব। সে দিন আসিতেছে, যে দিনে অদ্বৈত ভাবাপন্ন জ্ঞানী মানুষের চীৎকারধ্বনি সফলতা লাভ করিবে। অদ্বৈতভাব ব্যতীত আর কোন প্রকারেই মানুষের প্রতি মানুষের মন্দভাব দূর হইতে পারে না।

৭৩ মোহ নিদ্রা হইতে মনুষ্যকে জাগরিত করিবার জন্যই সময়ে সময়ে অলৌকিক ব্যাপার ঘটিয়া থাকে।

৭৪ পূর্ণ সিদ্ধাবস্থা না হওয়াতে সাধকের বাক্যে ও কার্য্যে অবিশ্বাসের কারণ হয়।

৭৫ শোক নিবারণার্থ শ্রাদ্ধাদি অপ্রয়োজনীয়, কেননা তাহাতে জীবনমুক্তির আশা দূরীভূত হইয়া যায়।

৭৬ জন্ম একবার। পুনর্ব্বার জন্ম হইলে, পূর্ব্ব জন্ম সম্পর্কে সকল কার্য্য পন্ড হইয়া যায়। অতএব যাহার শরীর ধ্বংস হইতে দেখা যায় সে পূনর্ব্বার অন্য আকৃতি ধারণে শিশু হইয়া না জন্মিয়া সেই শরীর লইয়াই পৃথিবীতে আসিয়া পূর্ব্ব পরিচিতের নিকটে পরিচিত হইবে ও সকল শোক দুঃখের শেষ করিবে ইহাতে কোন বাধা দৃষ্ট হয় না।

৭৭ স্বর্গ ও নরক নামে কোন বিশেষ স্থান নাই। স্বর্গ শব্দের অর্থ সুখ আর নরক শব্দের অর্থ দুঃখ।

৭৮ সকলই পবিত্র। পবিত্র স্বরূপ সর্ব্বব্যাপী ঈশ্বরের রাজ্যে অপবিত্র কিছুই হইতে পারে না।

৭৯ শুভাশুভ উভয়ই মঙ্গল।

৮০ সর্ব্ব ধর্ম্মের সামঞ্জস্য যেখানে, সেখানেই প্রকৃত ধর্ম্ম। এইজন্য ঈশ্বর হইতে সর্ব্বতত্ত্ব লাভ করিয়া, যে ব্যক্তি সকল ধর্ম্মের ঐক্যে যোগ দিয়া লোকদিগকে প্রকৃত ধর্ম্ম সাধনের পথ প্রদর্শন করিতে সক্ষম, তাঁহাকেই গুরু বলা যাইতে পারে।

৮১ সাধুসঙ্গ দ্বারা হৃদয় পরিষ্কার হয়, মন প্রশান্ত হয় এবং সাধ্য-সাধনার বিশেষ যোগ লাভ হইতে থাকে।

৮২ জগতের কোন ধর্ম্মকেই অগ্রাহ্য করা যাইতে পারে না, কেননা তাহা সাময়িক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয়।

৮৩ প্রত্যেকে প্রত্যেকের ধর্ম্মপথের মধ্য দিয়া প্রস্তুত হইয়া প্রকৃত জ্ঞানের পথে আসিবে ও সময়ে সকলে প্রেমযোগে মিলিত হইয়া পরিত্রাণ লাভ করিবে, ইহাতে সন্দেহ করিবার কারণ কিছুই নাই।

৮৪ প্রত্যেক ব্যক্তির মনোগত ভাব ঈশ্বরবাণী দ্বারা জানিয়া যাহার জন্য যে নাম ও যে সাধন আবশ্যক তাহা তাহাকে সময়ে সময়ে বলিয়া দিয়া হৃদয়ের সন্তাপ নিবারণ করা প্রকৃত প্রচারক ও আচার্য্যরে কার্য্য।

৮৫ মানুষের জীবন চারিভাগে বিভক্ত : যথা- প্রবৃত্ত, সাধক, সিদ্ধাসিদ্ধ ও সিদ্ধ।

৮৬ স্ত্রী ও পুরষের যোগ সকলের মূল।

৮৭ একাকী সাধনের ইচ্ছা অর্দ্ধযোগ মাত্র।

৮৮ যাহাতে স্ত্রীর সহিত সর্ব্বতোভাবে মিলিত হইয়া জীবন উন্নত করা যায় তাহাই প্রত্যেক সাধন ভজনের পূর্ণ আদর্শ ও একতার কারণ।

৮৯ যাহারা ঈশ্বরেতে আত্মসমর্পণ করিয়া আমিত্ব দোষকে দূর করিয়া ফেলিয়াছেন, কেবল তাঁহারাই নির্ভিক হইয়া জীবনের পথে অগ্রসর হইতে পারেন ও ধর্ম্মাধর্ম্মের বিচার আবশ্যক মনে করেন না।

৯০ সর্ব্বশক্তিমত্তার মধ্যে না আছে এমন বিশেষণ জগতে নাই ও হইতে পারে না। ইহার মধ্যে হৃদয় মন ছাড়িয়া দিলে আর কিছু বাকী রহিল বলিয়া মনে উদ্বেগ থাকিবে না।

৯১ আধ্যাত্মিক ও বাহ্য জগত উভয়ই এক ঈশ্বর দ্বারা পরিব্যাপ্ত এবং তাঁহাতেই স্থিত আছে।

৯২ ধ্যান চরম সাধন। ধ্যানের পূর্ব্বে নাম সাধন আবশ্যক। সে নাম স্বীয় হৃদয় যোগে লাভ করা কঠিন; এইজন্য আচার্য্য সন্নিধানে গমন করিবে।... সময়ে সময়ে ভিন্ন ভিন্ন নামের যোগ প্রত্যেক মনুষ্যেরই লাভ করা প্রয়োজনীয়। তাহা সময় বুঝিয়া আচার্য্য বলিয়া দিবেন।

৯৩ রোগাদি প্রতিকারের জন্য ঔষধাদির প্রয়োজন নাই।

৯৪ রোগাদি ক্লেশের দ্বারা মনুষ্যেও সাধন সাধ্য হইতেছে।

৯৫ সকল নামের যোগ একটি নামেতে আছে, সেই নাম- দয়াময়।

৯৬ স্বপ্ন চারি প্রকার যথা : সিদ্ধ, অসিদ্ধ, যোগ ও বিয়োগ। স্বপ্ন ছাড়া মানুষ ক্ষণকালও থাকিতে পারে না। রাত্রি-দিবা, শয়নে-জাগরণে যে সকল ভাব মনে বিচরণ করে, তাহা সকলই স্বপ্নের কার্য্য। বাস্তবিক স্বপ্ন বৃথা নহে, তাহা মনুষ্যেও ভ্রম ও অজ্ঞানতার যোগ শেষ করে।

৯৭ গৃহধর্ম্ম ছাড়িয়া স্বর্গলাভ অসম্ভব।

৯৮ ঈশ্বর উপাসনা করিতে যাও, হৃদয় মনের তৃপ্তিতে শরীরের গ্লানি হ্রাস হইয়া যাইবে। দান দ্বারা নিজ মনের শান্তি ও অন্যের ইন্দ্রিয় সেবা ও তৃপ্তি সম্পাদিত হইবে। সকল কার্য্যই ইন্দ্রিয় সেবা।

৯৯ সর্ব্বধর্ম্মের ঐক্যের নিমিত্তে বিশেষ লোক একজন আসিবেন।

১০০ জগতে যাহার যেরূপ ইচ্ছা তাহার ক্রটিতে অন্যের ইচ্ছার তৃপ্তি দ্বারা যে স্বাধীনতা তাহা স্বাধীনতা নহে।

১০১ যাহারা ঈশ্বরের প্রেম বিশেষরূপে হৃদয়ে ধারণ করে ও তাঁহাতে বিশ্বাস হইয়া সকলেই তাঁহার মঙ্গল ইচ্ছার অধীন মনে করে এবং স্বকর্ম্মের ভাব ও অনিষ্টাশঙ্কা একেবারে পরিত্যাগ করে, তাহাদিগকে অস্বাধীন ব্যাপারে কষ্ট দিতে পারে না।

১০২ জাতিগত পার্থক্যের মধ্যে আধ্যাত্মিক মিল। প্রত্যেকের সঙ্গে প্রত্যেকের আধ্যাত্মিক প্রেম সম্বন্ধ রহিয়াছে, ইহাতে যাহার স্থির বিশ্বাস হইবে তাহার হৃদয় হইতে শীঘ্রই বিবাদ বিসম্বাদের ভাব চলিয়া যাইবে।

১০৩ সকল বস্তুই এক বলিয়া বিশ্বাস করা অযুক্ত নহে।

১০৪ আপনার ন্যায় সকলেতে বিশেষ ভাব যাহার আছে, সেই সাধু।

১০৫ মনের যোগ শেষ হইলে ঈশ্বর দর্শন লাভ হইবে।

১০৬ মনের যোগ দূর হইয়া যাহার জীবনের যে কার্য্য নির্দিষ্ট আছে তাহা লাভ করিবার জন্য যে পন্থা তাহাই সাধন ভজন।

১০৭ বৃদ্ধিই জগতের লক্ষ্য।

১০৮ যে সকল কার্য্য কলাপাদি দ্বারা আহারীয় পানীয় প্রভৃতি লাভ হয় এবং মান সম্ভ্রমাদি রক্ষা পায় তাহার নাম সংসার। আর ঈশ্বরীয় প্রেমে নিমগ্ন হইয়া মন যাহা চায় তাহার নাম অসংসার।

১০৯ মনুষ্য-আত্মা শরীর ধ্বংসের পর যে স্থানে অবস্থিতি করে সে স্থানকে ‘পরলোক’ এই নামে অভিহিত করা যায়।

১১০ নানা প্রকার মত ও মনের ভাবের মধ্যে পড়িয়া মনুষ্য এক ঈশ্বরেতে যোগ শেষের অবস্থা শীঘ্র লাভ করিতে পারে না।

১১১ সাধনের কার্য্য আরম্ভে কল্পনা, আসন, বসন, তীর্থভ্রমণ, শ্মশানাদিতে জপ, মুদ্রা, পূজা, প্রচারাদি এবং ভক্তগণের যোগাদি নানা প্রকার কার্য্য অবলম্বিত হইয়া থাকে। ইহার দ্বারাই হিন্দুদিগের মধ্যে সিদ্ধির কথাও শুনা যায়, কিন্তু এই আংশিক সিদ্ধি দ্বারা জগতের বিশেষ উপকার হইতে পারে না ও তাহা অচিরকাল মধ্যেই অবসন্ন হইয়া যায়।

১১২ জগতের যোগ লাভ না করিলে কোন প্রকারেই প্রকৃত সিদ্ধি লাভ হইতে পারে না। কোন প্রকারের ধর্ম্মাবলম্বীদিগের মধ্যেই প্রকৃত সিদ্ধির পথ আবিষ্কৃত হয় নাই। সকলেই মনে করে যে আপন আপন কার্য্যেেত সিদ্ধির ভাব আগমন করিতেছে, অথচ নানা প্রকারের সন্দেহ হৃদয়ে বিরাজ করিতে থাকে।

১১৩ যখন মনুষ্য সর্ব্ব সংস্কার পরিত্যাগ করিয়া একমাত্র সর্ব্বময় ঈশ্বরের শরণলাভে কৃতসংকল্প হইয়া জপন, মনন ও ধ্যান এবং অব্যবধানে ঈশ্বরীয় যোগ লাভ করে, তখনই কেবল মানুষ সিদ্ধির পথে দন্ডায়মান হয়।

১১৪ বিশুদ্ধ ব্রহ্মযোগ লাভ না করিলে সাধনের কার্য্য শেষ হইতে পারে না।

১১৫ সাধন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মনের শক্তি চক্ষুতে সংলগ্ন হইতে থাকিবে ও সমস্ত বাধা বিঘ্নকে অতিক্রম করিয়া অল্পে অল্পে দৃষ্টি প্রকাশিত হইবে এবং বাহিরের বস্তু গৃহ মধ্য হইতে দৃষ্ট হইবে। ইহারই নাম ঈশ্বর দর্শন।

১১৬ বাণীর যুক্তভাব এই যে, চিন্তা ব্যতীত অনর্গল সর্ব্ব বিষয়ে বাণী প্রকাশ পায়। যুঞ্জান ভাব এই যে, চিন্তা দ্বারা আবশ্যকীয় বিষয়ে বাণী প্রকাশ পায়।

১১৭ মানব জীবন সাধারণভাবে কার্য্য করে না। প্রত্যেকের মধ্যেই বিশেষ বিশেষ যোগ রহিয়াছে। সেইভাবেই সংসার বন্ধন ছিন্ন হইয়া সময়ে সকলেরই সিদ্ধ কার্য্যরে যোগ লাভ হইবে।

১১৮ যে আন্তরিক ঐক্য দ্বারা দুই শরীর এক হয় ও সংসার এবং স্বর্গ এক স্থানে মিলিত হয় তাহারই নাম বিবাহ।

১১৯ কান্তভাবে যাহারা ঈশ্বর সাধনে রত, আধ্যাত্মিক ভাবে তাহাদের বিবাহের যোগ আরম্ভ হয়। বিবাহযোগ শরীরেতে কার্য্য না করিলে তাহারা সাধনের শেষ ফল লাভ করিতে পারিবে না।

১২০ শরীর ও আত্মার ভাব ও কার্য্যরে ঐক্য-ভাবের নাম মুক্তি।

১২১ সময়ে সময়ে যে সকল মহাপুরুষগণ জগতে আগমন করিয়াছিলেন তাঁহারা তাঁহাদেও আপন মত কয়েকটি লোকের মধ্যে প্রচার করিয়াই লীলা সংবরণ করিয়া গিয়াছেন। তাঁহারা জীবন-মুক্তি রূপ সিদ্ধযোগ লাভ না করাতেই জগতে একমত সংস্থাপন করিতে সমর্থ হন নাই।

১২২ ঈশ্বর ও তাঁহার নাম এক এবং একই; এ উভয়ের কোন পার্থক্য নাই। ঈশ্বরেতে যাহা আছে তাঁহার নামেও তাহা আছে, ইহাতে স্থির বিশ্বাস হইলে অন্য প্রকার সাধনের কোন আবশ্যক থাকে না। এই নামযোগের পর ধ্যানযোগ লাভ করিয়া মনুষ্য শরীর সাধন পূর্ব্বক রোগ, শোক ও মৃত্যু হইতে নির্ভয় ও জীবন-মুক্ত হইবে।