যে মহামানবের মহান জীবন লীলার কিঞ্চিৎ আভাস এ স্থলে প্রদান করা হচ্ছে তিনি একজন ত্রিদিব বিজয়ী, ত্রিকালজ্ঞ ও জগদ্বরেণ্য মহাপুরুষ। যিনি জগতে সকল ধর্মের সামঞ্জস্য বিধান এবং সকল প্রকার পার্থক্য দূর করে জগতকে এক সূত্রে গ্রথিত করিবার জন্য ঈশ্বরাদেশে সর্ব্ব ধর্ম্ম মিশন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি জগতে শ্রীমৎ লব চন্দ্র পাল নামে খ্যাত। তিনি কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার থানার অন্তর্গত পুণ্যতোয়া গোমতি নদীর তীরস্থ বেগমাবাদ গ্রামে কোন এক মহৎ পাল বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার পিতার নাম কাশীনাথ পাল। মাতা মতি রাণী পাল। তাঁহার অলৌকিক জন্ম বিবরণ তিনি নিজেই প্রকাশ করে গেছেন। তিনি বলেছেন, “আমার জন্ম বেগমাবাদ গ্রামে। আমার বসত ঘর পশ্চিম ভিটীর ঘর। আমার জন্ম হয় উত্তর ভিটীতে। এই ঘরেই সাধারণত পাক হইত। ৩টি ঘরই আমাদের ছিল। মাটির বেড়া বা দেওয়াল, ছনের ছানি। আমার জন্ম ১২৮৯ বাংলা সনের ১৭ই বৈশাখ শনিবার বেলা ৪টা ৩২মিনিট ১৫ সেকেন্ডের সময়। জন্মের সময় ঔষজ ঘরে বীণা যন্ত্রে মুনিবর নারদ ঋষি, বিষ্ণুদেব ও চন্ডী ছিলেন। আর মহা মহাকালী প্রসব হইবা মাত্রই আমাকে কোলে ধারণ করিলেন। শিব ছত্রস্বরূপ দুই হস্ত আমার মাথায় আবরণ দিলেন। তখন স্বর্গ হইতে সকল দেব-দেবী পুষ্প বৃষ্টি করিলেন। জয়ধ্বনি ও হুলুধ্বনি সর্ব দেব-দেবী করিলেন। এরপর সন্ধ্যা সময় বরুণদেব ও পবনদেব উভয়ের মিলন হরষে জগতে অমৃত সুধা বৃষ্টি বর্ষণ করিলেন। পৃথিবী আনন্দে বিভোর হইল।”
শ্রীশ্রী কর্ত্তামহারাজ তাঁহার পিতার চতুর্থ সন্তান ছিলেন। তাঁহার পিতা-মাতা বড়ই ধর্মপ্রাণ ছিলেন। যখন বংশে কোন মহাপুরুষের জন্ম হয় তখন কুল পবিত্র হয়, জননী কৃতার্থা হন, বসুন্ধরা পুণ্যবতী হন। তিনি পুণ্যশ্লোক ছিলেন। এতদ্দেশে হিন্দু মুসলমানের নিকট তিনি লব বাবু নামে খ্যাত ছিলেন। তিনি পদব্রজে কোথাও রওয়ানা হইলে মেয়েরা হুলুধ্বনি করিত এবং অনেক পুরুষ বিনম্র বদনে অগ্রসর হইয়া শ্রদ্ধা ভক্তি করিত। কর্ত্তামহারাজের অল্প বয়সেই পিতৃবিয়োগ হয়। তখন তাঁহার শোকাতুরা অসহায় জননী তাঁহাকে এবং তাঁহার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা স্বর্গীয় ঈশ্বর চন্দ্র পাল মহাশয়কে লইয়া কাঁঠালিয়া গ্রামে তাঁহার মাতুলালয়ে চলিয়া আসেন। তখন তাঁহার বয়স ৭/৮ বৎসরের অধিক হইবে না। এখানেই আসিয়াই তিনি গ্রামের পাঠশালায় ভর্তি হইয়া বিদ্যাভ্যাস করিতে লাগিলেন। তাঁহার স্মৃতি শক্তি প্রখর ছিল। একটু চিন্তা করিলেই সব বলিয়া দিতে পারিতেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি একদিন বলিয়াছিলেন যে একটু চিন্তা করিলেই যে কোন বিষয় তাঁহার চক্ষের সামনে প্রকাশিত হইয়া পড়ে। পাঠেও খুব মনোযোগ ছিল। অল্পদিনের মধ্যেই তিনি পাঠশালার শিক্ষক স্বর্গীয় কৈলাস চন্দ্র পাল মহাশয়ের অতি প্রিয় পাত্র হইয়া উঠেন। তিনি নিয়মিত প্রাইমারী পরীক্ষায় বৃত্তি লাভ করেন। তিনি যখন ইব্রাহিমপুর মধ্য বাংলা স্কুলে পড়াশোনা করেন তখন তাঁহার গুরুদেব শ্রীমৎ আনন্দস্বামীর প্রথম দর্শন লাভ করেন। তিনি তাঁহার ইষ্টদেব শ্রী আনন্দকে জীবনে দুইবার দর্শন করেন। ১৩০৬ বাংলা সনের আশ্বিন মাসে তাঁহাকে শেষ দর্শন করেন। তখন তিনি নবীনগর স্কুলের ছাত্র ছিলেন।
নিন্মে তাঁহার শ্রীমুখের উক্তি দেওয়া হইল:
“আমি যখন নবীনগর স্কুলের বোর্ডিংএ থাকিয়া পড়াশোনা করি তখন একদিন মনে হইল- শ্রীৎ আনন্দ স্বামীজীকে আমার অবস্থাদি জানাইয়া চিঠি লিখি। তিনি সকলের ভাবী জীবন জানিতে পারেন এবং জীবনের দুরবস্থা বিদূরিত করিতে জানেন। তাঁহার আশ্রয় লইতে পারিলেই আমার উপায় হইতে পারে। আমি তাঁহার শ্রীপদে চিঠি লিখিলাম। পত্রোত্তরে শ্রী আনন্দ আমাকে জীবনের আশামূলক উজ্জ্বল ভবিতব্য জানিতে দেন এবং এন্ট্রান্স পরীক্ষায় বৃত্তি পাইব- এ খবর পত্রে উল্লেখ করিয়াছিলেন। এতদসঙ্গে একটি নামও জপ করিতে পাঠাইয়া ছিলেন। ইহাই আমার গুরুকরণ। ইনিই আমার গুরু- জীবনের একমাত্র অবলম্বন।...”
“কিছুদিন গেলে আমি নাম নিজে নিজে ঠিক করিয়া জপ করিতাম। মনে মনে শ্রী আনন্দ ছবি রাখিতাম। কোন কোন দিন স্বপ্নযোগে শ্রী আনন্দ মহারাজ দর্শন দিতেন- উপদেশাদি জানাইতেন। এভাবেই মনের প্রবল আকর্ষণ তাঁহার উপর পড়িয়াছিল। দয়াময়ের কৃপায় কখনও বা দুই একটি অচিন্তনীয় দৃশ্য ফুটিয়া উঠিত, সুন্দর করুণার নিদর্শন আসিত। অতীব আনন্দের সহিত সে সমুদয় স্মৃতি স্বপ্ন সাহিত্য বাছিয়া বাছিয়া আঁকিয়া রাখিতাম।...”
১৩০৭ সনের ১১ই জ্যৈষ্ঠ শ্রীমৎ আনন্দস্বামীজী ভবলীলা সংবরণের পর শ্রী শ্রী কর্ত্তামহারাজ গভীরভাবে মর্মাহত হইয়া পড়িলেন। তখন তাঁহার বয়স ১৮ বৎসর। কিছুদিন পর আনন্দস্বামীজির অতি আদরের একজন শিষ্য কর্ত্তামহারাজের বাড়ীর কাছে আসিলেন। তিনিই তাঁহার পরবর্তীকালের ধর্ম্মোপদেষ্টা, ‘মলয়া’র শক্তিশালী সাধক শ্রীমৎ মনোমোহন স্বামিজী। তাঁহাকে পাইয়া তিনি হৃদয় খুলিয়া দিলেন। ধর্ম্মের তত্ত্ব উদ্ধারে ব্রতী হইলেন। তিনি শ্রী শ্রী কর্ত্তামহারাজকে অনেক উপদেশ দিলেন এবং আশীর্বাদ করিয়া বলিলেন, “ তোমার ধর্ম্মজীবন লাভ হইবে, ধ্রুব সত্য।” তিনি তাঁহাকে ধর্ম্মের সঙ্গী করিয়া লইয়াছিলেন। তাঁহার সহিত পরিচয়ের কিছুকাল পর শ্রীমৎ মনোমোহন স্বামিজী উন্নতির শিখরে উঠিয়াছিলেন। একদা শ্রীমৎ মনোমোহন দত্ত তাঁহাকে বলিলেন, “দেখ লব, গুরুতত্ত্ব, স্ত্রীতত্ত্ব ও পরলোক তত্ত্বের বিশেষ সাধন তোমার দ্বারাই উদ্ধার হইবে ইহাই বুঝিতেছি।”
তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন। তিনি যে স্কুলে শিক্ষকতা করিতেন সেই স্কুলের সুনাম অতি দ্রুত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়িত। উজানচর হাই স্কুলে শিক্ষকতা করিবার কালে দেশের বহুলোক তাঁহাকে মহাপুরুষ বলিয়া জানিতে পারেন। কেহ ধর্মলাভের আশায়, কেহ কোন রোগ মুক্তির জন্য, কেহ বা কোন বিপদ হইতে রক্ষা পাইবার নিমিত্ত তাঁহার শরণাপন্ন হইত। ‘দয়াময়’ নাম দ্বারাই তিনি সকল প্রতিকার করিতেন। পরোপকার করাই ছিল তাঁহার প্রধান ব্রত। তাঁহার নিকট প্রার্থী হইলে বহু গরীব, দুঃখী ও বিপন্নকে সাহায্য করিতেন। তিনি সহজে কাহাকেও বিমুখ করিতেন না। হাতে টাকা না থাকিলে ধার করিয়াও তিনি প্রার্থীকে সাহায্য করিতেন। কোন সময় দান করিতে অসমর্থ হইলে নীরবে বসিয়া অশ্রু বিসর্জন করিতেন। তাঁহার হৃদয়ের পরিধি ছিল না। তিনি আর্তজনকে সর্বদাই সাহায্য করিতেন এবং শত্রু মিত্র নির্বিশেষে সকলকেই আশ্রয় দিতেন। তিনি ধর্ম্মের কাজগুলি সাধারণত নীরবে বা গোপনেই করিতেন। নিজের ব্যক্তিত্ব বা কার্যকারিত্ব সম্পর্কে একেবারে উদাসীন ছিলেন। কর্ত্তব্য কার্যে অনলস ছিলেন। জীবনে কোন কার্যই তিনি মূলতবী রাখিতেন না। তিনি পাঠ অধ্যাপনা ও কঠোর সাধনা অহোরাত্র করিতেন। সদাচার, বিদ্যাবত্তা, ধর্ম্মবল ও দীনতাই তাঁহাকে বরেণ্য করিয়াছিল। পরনিন্দা, পরচর্চা কখনও করিতেন না। তিনি সর্বদাই জগতের হিতের নিমিত্ত পঞ্চেন্দ্রিয়গত কার্য করিতেন। জাতিধর্ম্ম নির্বিশেষে সার্ব্বজনীন ঐক্যে যোগ দিয়া জগতমুক্তির কার্য করিতে তিনি সর্বদাই সচেষ্ট থাকিতেন।
শ্রীশ্রী কর্ত্তামহারাজের জ্যেষ্ঠপুত্র হীরালালের এক বৎসর বয়স না হইতেই মাতৃদেবী হঠাৎ পরলোক গমন করেন। গুরুমহারাজ শিশু সন্তান হীরালালকে নিয়ে বিব্রত হইয়া পড়িলেন। তৎপর ঢাকা জেলার হাইরমারা গ্রামের রুহিদাস পাল মহাশয়ের প্রথমা কন্যাকে দ্বিতীয়া পত্নীরূপে গ্রহণ করিলেন। বিধির কি বিধান, এই বিবাহেও তাঁহার সংসারের সুখ শান্তি বেশিদিন রহিলনা। অল্পকালের মধ্যে দ্বিতীয়া মাতৃদেবী হঠাৎ নশ্বর দেহ ছাড়িয়া নিঃসন্তান অবস্থায় লোকান্তরিত হন। তৎপরও ঃ
“স্ত্রী ও পুরুষের যোগ সকলের মূল”
“একাকী সাধনের ইচ্ছা অর্দ্ধযোগ মাত্র।”
মহাগ্রন্থ প্রকৃত তত্ত্বের এই দুই তত্ত্বের চিন্তা করিয়াই শ্রীশ্রী কর্ত্তামহারাজ দ্বিতীয়া মাতৃদেবীর কনিষ্ঠা ভগিনীকে তৃতীয় পত্নীরূপে গ্রহণ করিলেন। সরোজ দাদা, মনোজ দাদা ও বাসন্তি দিদি তৃতীয়া মাতৃদেবীর গর্ভজাত সন্তান। অদৃষ্টের কি পরিহাস! এই সন্তানগণের অপরিণত বয়সেই সকলকে শোক সাগরে ভাসাইয়া তৃতীয়া মাতৃদেবীও হঠাৎ একদিন পরলোক বাসী হইলেন। গুরুদেব তাঁহার একমাত্র কন্যা বাসন্তীকে বড় স্নেহ করিতেন। কিন্তু সেই কন্যাও অতি অল্প বয়সেই স্নায়বিক দৌর্বল্যে আক্রান্ত হইয়া সকলকে শোক সাগরে ভাসাইয়া দিব্যধামে চলিয়া যান।কর্ত্তামহারাজ বিহ্বল হইয়া পড়িলেন। বিষাদের ছায়া সকলকে আচ্ছন্ন করিল। গুরুদেব সহসাই দয়াময়ের নির্দিষ্ট বিধানকে স্বীকার করে সকল শোক সংবরণ করিয়া লইলেন। এত প্রতিকূল অবস্থায় পড়িয়াও তিনি শত শত ধর্ম্মার্থী লইয়া সর্বদাই স্বহাস্য বদনে চলিতেন এবং ধর্ম্মের যাবতীয় কার্য করিতেন।
শ্রীশ্রী কর্ত্তামহারাজ আজন্ম সাধক ছিলেন। সাধন করিয়াই তিনি ধর্মের নিগূঢ় তত্ত্ব লাভ করিয়াছিলেন। তিনি সর্ব্বতত্ত্বের অধিকারী ছিলেন। সকল ধর্ম্মের সত্য লাভ করে জগতের হিতার্থেই আজীবন কার্য করিয়া গিয়াছেন। সর্ব্বধর্ম্মের সামঞ্জস্য ও সকল প্রকার পার্থক্য দূর করিবার জন্য তিনি ধরাতলে অবতীর্ণ হইয়াছিলেন। তাঁহার অগোচর কিছুই থাকিতে পারে না। এতদ্বিষয় প্রসঙ্গক্রমে সর্ব্বধর্ম্মের মূলগ্রন্থ ও জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ দর্শন শ্রীশ্রীমৎ আনন্দ মহারাজের ‘প্রকৃত তত্ত্ব’ গ্রন্থের ৩৯নং তত্ত্বের অবতারণা প্রণিধানযোগ্য।
সর্ব্বধর্ম্মের ঐক্যের নিমিত্ত বিশেষ লোক একজন আসিবেন
“জগতের ধর্ম্ম সম্প্রদায়ীদিগের মধ্যে যে সকল অবতার অবতীর্ণ ও প্রেরিত বা সাধু পুরুষের ভাব কার্য্য করিতেছে, তাঁহাদের কোন ব্যক্তিকেই উপেক্ষা করা যাইতে পারে না। তাঁহারা সকলেই সময়ানুসারে আগমন করিয়া জগতের উপকার সাধন করিয়াছেন। ইঁহাদিগের কার্য্যরে ভাব পৃথক পৃথক দৃষ্ট হয় কিন্তু একতার ভাব অভ্যন্তরে আছে। এই একতার ভাব তাদের লিখিত ধর্ম্মগ্রন্থ হইতে প্রকাশ করিয়া বুঝাইয়া দেওয়ার জন্য জনৈক প্রশস্তমনা আচার্য্যরে আবশ্যক। এমনদিন নিকট হইয়াছে যে দিনে সর্ব্বধর্ম্ম সামঞ্জস্য ও সকল পার্থক্য দূর করিবার জন্য একজন আসিবেন, তাঁহার কথা জগৎ শুনিবে ও একতার পূর্ণযোগ লাভ করিয়া জীবন্মুক্তির সোপানে আরোহন করিবে।” (প্রকৃত তত্ত্ব)
এক্ষনে দূরদর্শী, ধর্ম্মবেত্তা, ভক্ত প্রাণ সাধকজনের নিকট ইহা দিবালোকে সদৃশ স্পষ্ট যে সর্ব্বধর্ম্ম মিশনাবতার শ্রীশ্রীমৎ লব চন্দ্র পাল গুরুমহারাজই সেই বিশেষ ব্যক্তি। যিনি বলিয়াছেন, এমন দিন আসিতেছে যে দিনে জগৎ সর্ব্ব ধর্ম্ম মিশনকে বরণ করিয়া লইবে ও একতার পূর্ণ যোগ লাভ করিয়া সকলেই জীবন্মুক্তির সোপানে আরোহন করিবে।
তিনি জগত সাধন পূর্ণ করিয়াছিলেন।
নিম্মোক্ত তাঁহার শ্রী মুখের বাণী শুনিলে তাহা সকলেই সহজে বুঝিতে পারিবে :
একদা কয়েকজন ধর্ম্মন্ধুকে সঙ্গে লইয়া গুরুমহারাজ পদব্রজে ভিরাল্লা থেকে দেবীদ্বার যাচ্ছিলেন। হঠাৎ রাস্তার এক স্থানে দাঁড়াইয়া বলিলেন, “একদিন বিছানায় শুইয়া দেখিতে পাইলাম জগৎ আমার সঙ্গে কাৎ হইয়া যাইতেছে, এই দৃশ্য দেখিয়া মনে করিলাম, ইহা হয়তো আমার চক্ষুর ভ্রম হইতে পারে, সুতরাং চক্ষুদ্বয় কাপড় দিয়া মুছিয়া আবার বিপরীত পাশে শয়ন করিতেই স্পষ্ট দেখিতে পাইলাম সমগ্র জগৎ আমার সঙ্গে সঙ্গেই আবার কাৎ হইতে চলিয়াছে।”
শ্রীমৎ লব চন্দ্র পাল সারাজীবন মিশনের মাধ্যমে জগতে দয়াময় নাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। দয়াময় নাম জগতব্যাপী প্রচারের লক্ষ্যে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে বহু আশ্রম প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তিনি যে কত শক্তি নিয়ে এই ধরাতলে আসিয়াছিলেন তাহা তাঁহার কঠোর পরিশ্রম ও কঠোর সাধনার কথা শুনিলে সকলেই উপলব্ধি করিতে পারিবেন। তাঁহাকে মান্য করিয়াই মিশনের মাধ্যমে জগতের ঘরে ঘরে দয়াময় নাম প্রচার লাভ করিবে।
শ্রীশ্রী কর্ত্তামহারাজ শিষ্যদের মাঝে পূর্বে কথিত এক মাস ব্যাপিয়া একটি উৎসব কার্য শেষ করিয়া ১৩৭৩ বাংলা সনের ১৭ই জ্যৈষ্ঠ মঙ্গলবার রাত্রি ১টা ৪৫ মিনিটের সময় ভবলীলা সাঙ্গ করিয়া আনন্দ জগতবাসী হইলেন।